চট্টগ্রামে ভূমিধসের ঝুঁকিতে অর্ধলাখ মানুষ

0

চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিতে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিধস সতর্কবার্তার পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী–২ কার্যালয়ের উদ্যোগে পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অবৈধ বসতি রয়েছে নগরের ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে। সেখানে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়কের পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী–২ জিসান দত্ত বলেন, “ভারী বর্ষণের আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর বর্ষার আগে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে মাইকিং এবং উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও পাহাড়ে বসতি গড়ে ওঠে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অনেক জায়গায় কাঁচা ঘর ও কলোনি তৈরি করে ভাসমান মানুষদের ভাড়া দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে চট্টগ্রামে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। ২০০৭ ও ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর একাধিক সুপারিশ দেওয়া হলেও কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।