বন্যায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যায় প্লাবিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গত ৭ দিনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। চিকিৎসকদের মতে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি। তবে আক্রান্ত সবাই দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
গত ৬ থেকে ৭ দিন ধরে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলার শত শত গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত। এ সময়ে সাপের কামড়ে আহত ৯৩ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ১৩ জন। তাদের সবার পায়ে সাপের কামড় লেগেছে এবং বিষের তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সবুজ বিষাক্ত সাপের কামড়ে আহত রোগী রয়েছেন ৮ জন। বাকিদের কোবরা ও রাসেলস ভাইপারের মতো বিষাক্ত সাপ কামড়েছে। অনেকের পায়ের আক্রান্ত অংশ নীল বর্ণ ধারণ করেছে। তবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় কারও প্রাণহানি হয়নি।
চিকিৎসকরা জানান, গত সাত দিনে ৯৩ জন চিকিৎসা নিলেও তাদের সবার ক্ষেত্রে বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এ সময়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম রিসার্চ সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, জুলাই মাসের এই সময়ে আগে কখনো এত বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। এবার অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ ও সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যেমন বিভিন্ন স্থানে চলে আসছে, তেমনি মানুষও আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে যাচ্ছে। তাই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সাপে কাটার ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


