কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৩১

0

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বিশেষ করে সুপেয় পানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছেন অনেক মানুষ।

রোববার (১২ জুলাই) রাতে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফকিরকাটা এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিরঞ্জন চন্দ্র দাশ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রামু থানার গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই দিন সন্ধ্যায় চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকায় প্রায় ২৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ১৩ বছর বয়সী সজিব দাসের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

এর আগে শনিবার কক্সবাজার পৌর এলাকায় পাহাড়ধসে এক গৃহবধূ এবং পেকুয়া ও চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। গত আট দিনে জেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি উপজেলায় মোট ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৫ জন আশ্রয়ার্থীও রয়েছেন।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলেও কাদামাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, তিন দিন পানিবন্দী থাকার পর পানি কমেছে, তবে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপদ পানি ও খাদ্যের সংকট। অনেক নিম্নআয়ের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রোববার চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন বলেন, বন্যাকবলিত কোনো মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন না। দুর্গত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার সব ধরনের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।