টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে আস্থার কান্ডারি হয়ে দাঁড়িয়েছে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গত এলাকায় তাকে ছুটে বেড়াতে দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলোকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে দেন ইউএনও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের সময় একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এভাবে মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে খুব কমই দেখা যায়। পানিবন্দি মানুষের খোঁজ নিতে তাঁর নিরলস ছুটে চলা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার জন্ম দিয়েছে।
ইউএনও মো. মহিন উদ্দিন বলেন, গত চার-পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার আয়হীন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে জ্বালানি ভিজে যাওয়ায় অনেক ঘরে রান্নাও হয়নি বলে জানিয়েছে অনেকে। উপজেলার প্রতিটি এলাকার খবর রাখা হচ্ছে। কোথাও সংকটের খবর পেলেই দ্রুত খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জুঁইদণ্ডী, রায়পুর, বারখাইন, বৈরাগ ও বারশত ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে এসব শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ইউনিয়নগুলোতেও দ্রুত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলার ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


