চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ বছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলেও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। খাগড়াছড়িতে পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে হয়েছে ২১টি। বিপরীতে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি—এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আটটি।
অনুত্তীর্ণদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী মঙ্গলবার থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে।


