চট্টগ্রামে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কার্যালয়। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ ই-মেইল ঠিকানা চালু এবং সিএমএম কার্যালয়ের বাইরে একটি সিলগালা করা অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার এ বিষয়ে একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার। ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত এবং প্রমাণাদি জমা দিতে পারবেন।
প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, আদালতের পরোয়ানা প্রেরণ বা প্রত্যাহার, সার্টিফিকেট কপি সংগ্রহ, জামিন প্রক্রিয়া, জব্দকৃত আলামত বা যানবাহন ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি, অযৌক্তিক বিলম্ব কিংবা অনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও হয়রানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যাবে।
অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল, ছবি, অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করা যাবে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও তথ্যের গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে বলে প্রশাসনিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যক্তিগত দেওয়ানি ও সাধারণ ফৌজদারি মামলা, বিচারাধীন মামলার ফলাফল প্রভাবিত করার আবেদন কিংবা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়া এ ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকবে।
সিএমএম কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কোনো মামলা দায়েরের বিকল্প নয় এবং মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


