চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে অসহযোগিতার ঘোষণা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

0

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সব কাজে সর্বাত্মক অসহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিনটি সংগঠন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুয়েট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে যৌথ সভা করে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি তিনটি সংগঠন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, চুয়েট পরিবার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে গ্রহণ করছে না। সরকার দ্রুত এ সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর চুয়েট শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শিক্ষকরা।

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের ১৭ দিন পর সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দেন তারা। তবে তিনি কার্যালয় না ছাড়ায় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্য কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন এবং আন্দোলনকারীরা ভবনের বাইরে অবস্থান করছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।