তাজমিন হত্যা মামলা: জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় কারাগারে রাজু

0

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার তদন্তে আলোচনায় আসা কক্সবাজারের হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সোমবার (১২ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহী নূরী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজুকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের চন্দ্রিমা উদ্যানসংলগ্ন এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। তাজমিন হত্যা ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।

সোমবার সকালে কুমিল্লা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে লিখিত অধিযাচনপত্র পাঠান। এরপর কুমিল্লা থেকে আসা ডিবির একটি দল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তাকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, কুমিল্লা পুলিশের অধিযাচন অনুযায়ী রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ফেরত দেওয়া হলে বিকেলে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, রাজুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য কুমিল্লা পুলিশের দল কক্সবাজারে যায়নি। হোটেলে অবস্থানসহ তদন্তের প্রয়োজনে কিছু বিষয় যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাজমিনের পরিবার চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজারে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ৬ অক্টোবর তাজমিন কক্সবাজারে আসে। সেখানে কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর লেখা হয়েছিল। সেখানে তাদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তারা হোটেল ছাড়েন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজু তাজমিনের জন্য কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কেটে দেন। ওই রাতে কুমিল্লায় পৌঁছে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার সঙ্গে তাজমিনের দেখা হয়। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবার করা হত্যা মামলায় গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে রাজুর সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পুলিশ বা তাজমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল। তাদের পরিবারের আদি নিবাস যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবা আবদুল আলিম রেনাটা পিএলসিতে চাকরি করায় তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।