নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা

বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন করে আশার আলো দেখছেন কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ক্যাম্পগুলোতে আবারও আলোচনা জোরালো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির গড়ে উঠেছে কক্সবাজার জেলায়; এর মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পটি সবচেয়ে বড়।

একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় তা সফল হয়নি। নতুন সরকার আসায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আবারও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।

উখিয়ার ক্যাম্প-১৬–এর বাসিন্দা আসমত উল্লাহ (২৪) বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসায় আমরা নতুন করে আশাবাদী। আমরা চাই নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে টেকসই প্রত্যাবাসন।

ক্যাম্প-১৮–এর বাসিন্দা আব্দুল হাই (৪৬) অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আগের মতো কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবারও নিরাপদে ফিরতে পারব বলে আশা করি।

বর্ধিত ক্যাম্প-৪–এর রমিজ উদ্দিন (২২) জানান, আন্তর্জাতিক মহল আরও সক্রিয় হলে প্রত্যাবাসন এগোবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তিন, পাঁচ ও দশ বছরের ধাপে ধাপে একটি রোডম্যাপ দরকার। আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থাপনাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি—দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন জানিয়েছে, নতুন সরকার প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ইতিবাচক একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জটিলতা থাকলেও পূর্বে নেওয়া উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে গ্রহণযোগ্য সমাধানের সম্ভাবনা আছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।