নরমাল ডেলিভারির অপেক্ষায়, হঠাৎ জরুরি সিজার; বাঁশখালীতে প্রথমবার সফল অস্ত্রোপচার

0

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চলাকালে জটিলতা দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকেরা। সফল অস্ত্রোপচারে নবজাতকের জন্ম হয়েছে। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চলাকালে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে এটিই প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ভর্তি হওয়া ওই প্রসূতির গর্ভের শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেদিন হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ, সার্জন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় এবং রোগীর স্বজনদের সম্মতি পাওয়ায় সেখানেই অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের দ্রুত ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। এতে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

অস্ত্রোপচারে প্রধান সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. পিনাকি দাশ। সহকারী সার্জন ছিলেন ডা. রওনক নাজনীন। অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. মো. আবু সুফিয়ান। অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স লিপি।

পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুমিনুল হক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব সম্পন্ন হওয়া স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে জরুরি প্রসূতিসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ল। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে তাঁরা কাজ করবেন। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।

গাইনি সার্জন ডা. পিনাকি দাশ বলেন, নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

উপজেলা মেডিকেল অফিসার (আইসিটি) ডা. আছরার উল্লাহ নূরী বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে জরুরি মাতৃস্বাস্থ্যসেবা কার্যকর রাখা গেলে প্রসূতিদের দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। স্থানীয় মানুষ যেন নিজ উপজেলাতেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুমিনুল হকও এ ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে জরুরি প্রসূতিসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সফল অস্ত্রোপচার স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।