পাহাড়ে এবার কোরবানির পশুর হাটে আলোড়ন সৃষ্টি করতে আসছে বিশাল আকৃতির ‘রয়েল’। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্জ্যা ইউনিয়নের রশিদপুর এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরম মমতায় গরুটি লালন-পালন করছেন স্থানীয় কৃষক নাজিম উদ্দিন।
সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বেড়ে ওঠা এই শাহীওয়াল জাতের গরুটি বর্তমানে এলাকার আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কৃষক নাজিম জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নিজের সন্তানের মতো গরুটির দেখাশোনা করছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকারক ওষুধ বা স্টেরয়েড ছাড়াই শুধুমাত্র সবুজ ঘাস, খড় ও খৈলের মতো প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করেছেন তিনি। বর্তমানে রয়েলের ওজন প্রায় সাড়ে ৬০০ কেজি বা সাড়ে ১৬ মণ। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মালিক এর বাজার মূল্য দাবি করছেন ৭ লাখ টাকা।
নিজের পরিশ্রমের কথা জানিয়ে কৃষক নাজিম বলেন, আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বড় গরু তৈরি করার। গত পাঁচ বছর ধরে আমি রয়েলের পেছনে দিনরাত সময় দিচ্ছি। এখন উপযুক্ত দাম পেলে আমার এই কষ্ট স্বার্থক হবে।
এআইটি পল্লী পশু চিকিৎসক আল-আমিন জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে শাহীওয়াল জাতের এই উন্নত বীজটি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত গরুটির স্বাস্থ্য তদারকি করেছি। নিয়মিত লিভারটনিক ও কৃমিনাশক ছাড়া অন্য কোনো কেমিক্যাল বা ক্ষতিকারক ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় লালন-পালন করায় গরুটি এখন বেশ সুঠাম ও সুস্থ। এই উপজেলায় সচরাচর এত বড় গরু দেখা যায় না।
স্থানীয় প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীন জানান, নাজিম একজন অত্যন্ত দরিদ্র ও পরিশ্রমী কৃষক। অভাবের মধ্যেও রয়েলকে পরম আদরে বড় করেছেন তিনি। বিশাল আকৃতির এই গরুটি দেখতে এখন প্রতিদিন মানুষের ভিড় বাড়ছে নাজিমের বাড়িতে।
আসন্ন কোরবানির বাজারে ‘রয়েল’ তার আকার ও সৌন্দর্যে হাটে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা।


