পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসবগুলো কেবল আনন্দ আয়োজনের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি বলেন, “সাংগ্রাই মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলন ঘটে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, যেখানে সকল জাতিগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে।”
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা (জল উৎসব) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এবার পার্বত্য অঞ্চলের ১১টি জাতিগোষ্ঠী উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব পালন করেছে। তবে অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, যা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই উৎসবগুলো পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতীক। এ সংস্কৃতির ধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
চিংমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাংগ্রাই জল উৎসব পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। উৎসবে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে উৎসব উদযাপন করেন।
নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে এবং সানুচিং মারমা ও সাচিং উ মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো, সাইফুল ইসলাম পনির, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এদিন মূল মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি মাঠের একপাশে তরুণ-তরুণীরা জল খেলায় অংশ নেন। পরে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা বলেন, “এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতেই আমরা এখানে এসেছি।”
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল মূল সাংগ্রাই জল উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও ১৩ এপ্রিল থেকেই চিংমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলা শুরু হয়। এ সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ী নানান পসরা নিয়ে মেলায় অংশ নেন। নববর্ষকে ঘিরে বিহারে বৌদ্ধ পূজা, বুদ্ধমূর্তিকে স্নান, বয়স্কদের স্নান করানোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।


