বান্দরবানে ভোটের মাঠে সম্প্রীতি ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন—এই তিন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নেমেছেন এখানকার ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, তারা এমন একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান, যিনি পাহাড়ে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখবেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। দুর্গম এই পাহাড়ি জনপদে উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নিরাপদ পানীয় জল, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

নীলগিরি, সাঙ্গু, নাফাখুম, আমিয়াখুম, বগালেক ও স্বর্ণমন্দিরসহ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবানকে বিশ্ব দরবারে পর্যটন নগরী হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম—এমন নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বাঙালি, মারমা, বম, চাকমা, ত্রিপুরা, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম ও জাতিগত বিভেদ ভুলে ভোট উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩০০ নং সংসদীয় আসন বান্দরবানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। পুরুষ ও নারী ভোটারের ব্যবধান খুবই কম, যা এই আসনে ভোটের ভারসাম্যকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বান্দরবান আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে সাচিং প্রু জেরী,
জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে আবু তাহফুর মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ আব্দুল হালিম আজাদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও ভূমি সমস্যাসহ নানা কাঠামোগত সংকটে ভুগছে বান্দরবান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সমস্যা সমাধানে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে একজন প্রকৃত সেবক ও উন্নয়নবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চান তারা।

প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই প্রার্থীরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে সদর পর্যন্ত দফায় দফায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা। তবে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়েও কিছু উদ্বেগ রয়েছে।

ভোটাররা চান, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের হামলা-মামলা বা ভয়ভীতি না থাকে। নারীরা যেন নিরাপদ ও নির্ভীকভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বান্দরবান আসনেই প্রার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে ভোটের ফলাফল অনেকটাই সরল সমীকরণে নির্ধারিত হতে পারে।

বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা—যে সরকারই আসুক, পাহাড়ের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।