কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নাফ নদীর ওপার থেকে থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে, যার ফলে সীমান্তঘেঁষা এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনভর এসব শব্দ শোনা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেও এক দফা গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা মো. সলিমুল্লা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনার পর তিনি আর ঘুমাতে পারেননি। সীমান্তের খুব কাছ থেকেই এসব শব্দ ভেসে আসছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় জেলে আহমেদ উল্লাহ বলেন, রাখাইন সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে যেতে ভয় লাগে। রাতে ঘুমালেও সারাক্ষণ আতঙ্ক কাজ করে।
হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে এপারের বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। বেলা ১১টার দিকে তিন থেকে চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর থেকে থেমে থেমে এখনও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে গোলাগুলির ঘটনার সময় নাফ নদীতে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে মো. আলমগীর নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এর আগেও রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ায় একাধিকবার মানুষ আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসার বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
এদিকে চলমান গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।