রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া: কোন কোন দিকে নজর দিতে হবে

0

দিনের শেষে ক্লান্তি, মাথা ভার বা শরীর দুর্বল লাগাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক ক্লান্তি হলেও, যদি দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সাথে মাথা ঘোরা, বুক ধড়-ফড়, অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে এটি আর সাধারণ দুর্বলতা নেই। এটি হতে পারে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মানুষ কোন না কোন ধরনের অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। নারী, শিশু ও গর্ভবতীরা এর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশেও অপুষ্টি, আয়রনের ঘাটতি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে অ্যানিমিয়া একটি নীরব ঘাতক হিসেবে বিস্তার করছে।

রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। যখন এই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, তখন শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্মেও ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয়। এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো খাদ্য থেকে আয়রনের ঘাটতি। এছাড়া, ভিটামিন বি১২ ও ফলেটের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কিংবা শরীরে পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাও অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, নারীদের মাসিকজনিত রক্তক্ষরণ ও গর্ভাবস্থায় এটি বেশি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও অ্যানিমিয়া অজ্ঞাত কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে ।

অ্যানিমিয়া হঠাৎ করে নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে শরীরে জেঁকে বসে। তাই এটি বোঝা কঠিন কখন থেকে এ সমস্যায় শুরু হয়েছে। অ্যানিমিয়া লক্ষণ হলো: সারাদিন ক্লান্ত লাগা, মাথা ঘোরা, অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট বোধ করা, বুক ধড়ফড় করা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া ইত্যাদি। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যানিমিয়া নির্ণয় করা হয়। সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জানা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আয়রনের ঘাটতি বোঝার জন্য আয়রন প্রোফাইল অথবা সিরাম ফেরিটিন পরীক্ষা করা হয়। অথবা সিবিসি রিপোর্টের ভিত্তিতে ডাক্তার আরও কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন।এসবের মাধ্যমে অ্যানিমিয়ার ধরন এবং কারণ সনাক্ত করা হয় ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসাকালে আয়রন বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাছ, লাল মাংস, ডাল, সবুজ শাকসবজি) ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। এছাড়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও গর্ভবতী নারীদের সময়মতো চেকআপ করানোও গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রামবাসীর জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম। এখানে অভিজ্ঞ হেমাটোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধার মাধ্যমে অ্যানিমিয়াসহ অন্যান্য রক্তজনিত রোগের দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপ ইত্যাদি সবই এক ছাদের নিচে দিচ্ছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।

লেখক
ডা. মেজবা উদ্দিন চৌধুরী
এমবিবিএস, এমডি
কনসালটেন্ট, হেমাটোলজি এন্ড বিএমটি সেন্টার
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।