রাঙ্গুনিয়ায় কফি চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে নতুন সম্ভাবনা

0

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পদুয়া, ইসলামপুর ও বেতাগী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ইতোমধ্যে চাষ করা গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। কৃষকদের এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে কফি চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়ি ও ছায়াযুক্ত এলাকায় কফি চাষ করছেন কৃষকেরা। কফি গাছ ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো জন্মে বলে পাহাড়ের বিভিন্ন গাছের নিচে এর চারা রোপণ করা হচ্ছে। চাষাবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করছে কৃষি বিভাগ। ইসলামপুরে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

বেতাগী ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম ২০২৩ সালের দিকে কফির চারা রোপণ করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় তিনি ৩৫০টি কফির চারা, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান। ২০২৬ সালে এসে গাছগুলোতে ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাছে এক কেজির বেশি ফলন হচ্ছে।

মাহাবুবুল আলম আরো বলেন, কাঁচা অবস্থায় কফির ফল প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা, কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাউডার তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে কফি চাষ সম্প্রসারণে বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষি অফিস থেকে বেশির ভাগ উপকরণ পেয়েছেন। পরিচর্যাসহ অন্যান্য খাতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করলে তার মতো আরও অনেক কৃষক কফি চাষে এগিয়ে আসবেন। নিজের প্রায় ১২ কানি জমিতে কফি চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

বেতাগী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজান বলেন, মাহাবুবুল আলমকে প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে কফি চাষে সহযোগিতা করা হয়েছে। সাধারণত কফির চারা রোপণের আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করে। কফির ফলকে চেরি ফল বলা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং আগস্ট মাস থেকে ফল পাকতে শুরু করে। এরপর ফল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শুরু হয়।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় কফি একটি নতুন সম্ভাবনাময় ফসল। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে কফি চাষ হচ্ছে। কৃষকেরা পাকা কফির ফল নিয়ে কৃষি অফিসে আসছেন। ইসলামপুরে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার মাটি ও পরিবেশ কফি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে এ চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।