দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর যখন সন্ধ্যা নামে, তখন ভুতুরে হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা-মহতরপাড়া গ্রামাঞ্চল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাতে গ্রামীণ রাস্তায় বের হয় না। আগে রাতে মানেই গ্রামের মেঠোপথ থাকত গা ছমছমে অন্ধকারাচ্ছন্ন। তবে এখন এই দুই গ্রামের সেই আগের চিত্র পাল্টে গেছে নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের আলোকায়নে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কৈনপুরা অগ্রণী সংঘের মাঠে এ আলোকায়নের শুভ উদ্বোধন করেন মঞ্জু রাণী সেন। কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিহির কান্তি পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাপস হোড়। স্বাগত বক্তব্য দেন নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ও অগ্রণী সংঘের সভাপতি রঘুপতি সেন।
‘বাবার স্বপ্ন,মায়ের হাতে আলোকিত গ্রাম’ শ্লোগানকে সামনে রেখে নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উপজেলার বড়উঠান রাস্তার মাথা থেকে মহতরপাড়া হয়ে কৈনপুরা-চাতরী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কজুড়ে বসানো হয় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২৫টি স্ট্রিট সোলার লাইট। তাই এখন সন্ধ্যার পর বিজলি বাতির আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামীণ এই জনপদ। এ আলোর কারণে গ্রামীণ জনপদে এসেছে নিরাপত্তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহর নয় প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের মোড়ে মোড়ে এখন সোলার ল্যাম্প লাইট দাঁড়িয়ে আছে। যা সারা দিন সূর্যের আলোকে সঞ্চয় করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আলোকিত করে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ গ্রামীণ জনপদ। আর এতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে এ আলোর ব্যবস্থা করায় রাতে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যাবে।
নেপাল-মঞ্জু ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান অতিথি সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি বলেন, বাবার স্বপ্ন লালন করে রঘুপতি সেন গ্রামবাসীর জন্য আলোকায়নের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। এমন নতুন নতুন মহৎ উদ্যোগ নিয়ে এলাকার বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।


