চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের বৈধতা নিয়ে করা মামলার শুনানি আগামী ২৮ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে। এই শুনানির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আসন দুটির ভোটের ফল প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২৮ এপ্রিল আদালতে চট্টগ্রাম ২ ও ৪ আসনের শুনানি রয়েছে। শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার উপর নির্ভর করছে এ দুই আসনের ফলাফল ঘোষণার বিষয়টি।
এর আগে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ এই দুটি আসনের ফলাফল আমরা এখনো বলিনি। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবে এ দুই আসনের ফলাফল ঘোষণা করব।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১,৩৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ৬২,১৬০ ভোট।
এই আসনে সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে যান জামায়াতের প্রার্থী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করে জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং তার প্রাপ্ত ভোট বৈধ থাকবে। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ‘ধানের শীষ’প্রতীকে পান ১,৪২,৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ৮৯,২৬৮ ভোট।
ভোটের হিসাবে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক।
হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন; তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিজয়ের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।


