৪৫ বছর পর ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন আদালত

0

আগে রাজা-বাদশারা কিংবা জমিদাররা ঢোল পিটিয়ে সীমানা নির্ধারণ করতেন। এইভাবে জারি করতেন ডিক্রি। তবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এমন একটি ঘটনার অবতারণা হলো দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢোল পিটিয়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিলেন আদালত।

রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে এমনই ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদারের আদালত ঢাকঢোল পিটিয়ে এসব জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে বৈদখলে থাকা ৪ একর ৯ শতক জায়গার জন্য প্রতিবেশী আবদুল সোবহানের বিরুদ্ধে পটিয়া আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন মালেকা বানু। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বাদী-বিবাদী দুইজনই মারা যান। দীর্ঘ ৪৪ বছর মালেকা বানুর ওয়ারিশগণ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালে আদালত থেকে চূড়ান্তভাবে মালেকা বানুর পক্ষে রায় আসে।

অবশেষে, জমি আদালত ঢোল পিটিয়ে জমির প্রকৃত মালিককে জমিটির দখল বুঝিয়ে দেন। এ সময় জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও লাল পতাকা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

৪৫ বছর পর ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন আদালত 1

সংশ্লিষ্ট আদালতের নাজির, সার্ভেয়ার, অ্যাডভোকেট, কমিশনার এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমিটি মালেকা বানুর ছোটবোন মরিয়ম বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেন।

মামলার বাদী মালেকা বানুর পুত্র আহমদুল হক বলেন, আবদুস সোবাহান গং পরিবারের সদস্য বেশি থাকায় ৪৫ বছর আগে আমাদের মা-বাবার মালিকানা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেয়। পরে আদালতে মামলা করেন আমার মা। দীর্ঘ প্রতীক্ষারপর আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে আমাদের আফসোস, আমাদের মা-বাবা জমিটি নিজের দখলে দেখে যেতে পারেননি।

জানতে চাইলে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের নাজির অনি গুপ্ত বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ৪ একর ৯ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেস্ট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আমরা জমির প্রকৃত মালিক বাদীর পরিবারকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি। ঘটনাস্থলে বাদী-বিবাদী পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিল।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।