বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম এলাকায় হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা সদর ছাড়াও সীমান্তবর্তী গালেঙ্গা ও পাইন্দু ইউনিয়নের ম্রো ও খুমী অধ্যুষিত বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক এ রোগ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে প্রতিদিনই নতুন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে বাড়িতেই চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকায় সংক্রমণ আরও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট রয়েছে। অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালেও শয্যা, অক্সিজেন ও নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত সীমিত। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় অন্তত সাত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্তদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হচ্ছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মেডিকেল টিম নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং দুর্গম এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসাসুবিধার ঘাটতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


