উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে রাঙ্গুনিয়ায় নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় বসতবাড়ি ও কৃষিজমি কর্ণফুলীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ে বসবাসরত অনেক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে—তাদের ঘরবাড়িও যে কোনো মুহূর্তে ভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, কোদালা, শিলক, বেতাগী, সরফভাটা, পোমরা ও পৌরসভার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি ও জমি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের তিন ও চার নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানজীর ঘাট, জেলাপাড়া, ফকির পাড়া, খোন্দকার পাড়া, সুফিপাড়া, চৌধুরীগোট্টা ও নবগ্রাম এলাকায় ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে অনেক বেশি। এসব এলাকায় অবস্থিত চন্দ্রঘোনা বন ও শুল্ক পরীক্ষণ ফাঁড়িসহ সহস্রাধিক লোকের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
এছাড়া ভাঙনের কারণে পাঁচ শত বছরের পুরোনো অলিশাহ ফকিরের মাজার, ফকির পাড়ার কবরস্থান, খোন্দকার পাড়া জামে মসজিদ এবং জেলাপাড়ার শ্মশান ইতোমধ্যে নদীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। হুমকিতে রয়েছে চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী ছমিউদ্দিন শাহ (রহ.) মাজারসহ একাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ও দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার (১ আগস্ট) নদীপাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা দেওয়ানজী হাট এলাকায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইলিয়াস সিকদার।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাজিম উদ্দীন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক মানিক, সাংবাদিক মো. ফিরোজ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শওকত, আবদুস সালাম, রেজাউল করিম, আবদুল সবুর, আবদুল মান্নান, জহির আহম্মদ, মো. রিদুয়ান, মো. ইকবাল, পরিমল দাশ, সন্তোষ দাশ, উজ্জ্বল দাশ ও লিটন দাশ।
বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে নিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্রতর হয়েছে। চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের দেওয়ানজী হাট থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীপাড়ে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের, যাদের পক্ষে একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন করে বসতি গড়া সম্ভব নয়।
তারা আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ভাঙন রোধে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বক্তারা অতিসত্ত্বর কর্ণফুলী নদীর পাড়ে সিসি ব্লক স্থাপন করে ভাঙনরোধ এবং বেপরোয়া বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
নদীপাড়ের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি কামনা করেছে রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ জনগণ।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।