আত্মশুদ্ধি ও রুহানি শিক্ষার আবহে মির্জাখীল দরবারে প্রথম ওরস শরীফ

0

আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রেম, নৈতিক উৎকর্ষ ও মানবকল্যাণের আদর্শকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফে ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (কঃ)-এর প্রথম ওরস শরীফ পালিত হবে।

সিলসিলাহ-ই-আলীয়াহ জাহাঁগীরিয়াহর এ পবিত্র কেন্দ্রের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে তাসাউফের মূল অনুশীলন হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধি, প্রবৃত্তির সংযম, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ দর্শনে বাহ্যিক ধর্মাচরণের পাশাপাশি মানুষের অন্তর্জগৎকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করার সাধনাও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তাসাউফের ঐতিহ্য অনুযায়ী, শরিয়তের বিধান অনুসরণ, তরিকতের সাধনা, হাকিকতের উপলব্ধি এবং মারেফতের জ্ঞান অন্বেষণ আধ্যাত্মিক অগ্রযাত্রার পরস্পরসম্পর্কিত ধাপ। পীর-মুর্শিদের রুহানি দিকনির্দেশনা ও সান্নিধ্যকে এ সাধনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পথে পরিচালিত করা এবং ব্যক্তিজীবনে সততা, বিনয়, সংযম ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা।

মির্জাখীল দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ধারার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন একাধিক প্রজন্মের পীর-মাশায়েখ। তাঁদের মধ্যে হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মোখলেসুর রহমান (কঃ), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই (কঃ), হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ মকছুছুর রহমান (কঃ) এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (কঃ) উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এ ধারার সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঁগীর ইমামুল আরেফীন সৈয়দ মৌলানা ড. মুহাম্মদ মকসুদুর রহমান (কঃ)-এর তত্ত্বাবধানে দরবারের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ওরস উপলক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ফাতেহা, দোয়া মাহফিল এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (কঃ)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দরবার শরীফে নিয়মিত খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিলের আয়োজনও এ আধ্যাত্মিক চর্চার ধারাবাহিক অংশ।

সুফি সাধনার মানবিক তাৎপর্য হলো নিজের আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি অন্যের কল্যাণে কাজ করা। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশের মাধ্যমে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা এ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রথম ওরস শরীফ এসব মূল্যবোধের চর্চায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং আগত ভক্তদের মধ্যে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণের চেতনা আরও সুদৃঢ় করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।