আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রাজনীতির একটি যুগের ইতি ঘটল। জাতি এমন একজন নিবেদিত নেতাকে হারাল, যার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— এক্সে শেখ হাসিনার শোকবার্তা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ।
এতে শেখ হাসিনা বলেন, যিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ৫৪ বছর ধরে রাজনীতি ও জনসেবায় যুক্ত ছিলেন, তাকে জীবনের সবচেয়ে অসহায় সময়ে যথাযথ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয় সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের; বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২০২৫ সালের ১৪ অগাস্টে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
শেখ হাসিনা মনে করেন, মোশাররফের শারীরিক অবস্থা ভেঙে পড়ার পেছনে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দায় ছিল।
শোকবার্তায় তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ইউনূস সরকার প্রবীণ রাজনীতিক মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগলেও তাকে মিথ্যা মামলায় আট মাস কারাবন্দি রাখা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। জামিন পাওয়ার আগেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হয়েছেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।


