প্রবীণ রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

0

বর্ষীয়ান রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের গণতন্ত্র, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার সাহসী ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। স্বাধীনতার পরও তিনি দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে গেছেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রেসিডিয়াম সদস্য (নম্বর-১) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও আতিথেয়তা শিল্পেও তার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সায়মান বিচ রিসোর্ট ও সায়মান হেরিটেজ রেসিডেন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

তার দ্বিতীয় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব উর রহমান রুহুল ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্য দুই ছেলে মো. সাবেদুর রহমান সুমু ও আমিনুর রহমান রুমেল দেশের হসপিটালিটি খাতের পরিচিত ব্যবসায়ী। মেয়ে ডা. সামেনা জাবীন রীপা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় আজাদ মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেল ৫টায় মিরসরাই মহাজনহাট কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, ব্যবসায়ী মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই তাকে দূরদর্শী নেতা, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।