ইস্টার্ন রিফাইনারির এমডির বহিষ্কার চায় বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তারা

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করলেও বহাল তবিয়ে আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র অয়েল রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ লোকমান। লুটপাটের জন্য তাকে পর পর তিনবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর অন্যতম দাবি-‘চুক্তি ভিত্তিক সকল নিয়োগ বাতিল করতে হবে’র সাথে অন্তর্বতী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস একই নির্দেশনা জারি করলেও এখন পর্যন্ত লোকমান পদত্যাগ না করায় সকল মহল বিষ্মিত।

মোঃ লোকমান ২০২২ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে তিন বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নেন। তার কারনে এই পদের জন্য যোগ্য ৩ জন প্রকৌশলী বঞ্চিত হয়েছেন। ২০২৪ সালে বিপুল আর্থিক লেন দেনের এর মাধ্যমে মাধ্যমে তিনি রেকর্ড তৃতীয় বার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংগ্রহ করেন বলে বঞ্চিতদের অভিযোগ।

বঞ্চিতরা জানান, প্রকল্পের ঠিকাদার, নিয়োগ বাণিজ্য, পদোন্নতি, ট্রান্সফার, ক্যান্টিন, মেডিকেল বিল থেকে অতিরিক্ত ভাউচারের মাধ্যমে তিনি এ টাকা তুলে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে মসজিদ মাদ্রাসায় অনুদান তার আয়ের একটা বড় খাত।

এছাড়াও রিফাইনারির তেল চোর চক্রের পৃষ্ঠপোষকেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান। সকল ধরণের তেল চুরিকে তিনি প্রশ্রয় দেন এবং যথাযথ বখরা আদায় করেন। এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগানোর জন্য তিনি তার অধীনস্থ সিনিয়র কর্মকর্তাদের জামাত-শিবির, বিএনপি-জামাত, জামাত-ঘেঁষা প্রভৃতি ট্যাগ লাগিয়ে দেন যাতে তারা সরকারের শত্রুতে পরিণত হয়।

ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পটির ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তার সময় থেমে যায় পরবর্তীতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি এস আলম গ্রুপ এর কাছে বিক্রি করার জন্য তার বিশেষ আগ্রহে অতি দ্রুততার সাথে এমওইউ তৈরি করে দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য ‘সরকারি ক্ষমতার অপ-ব্যবহার’, সরকারি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির, স্বার্থের সংঘাতে তহবিল অপসারণ, দুর্নীতি বিরোধী উদ্যোগ ও অর্জনে বাধা দান, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহারের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে পদ্মা অয়েল কোম্পানির চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান পদত্যাগ করেন। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গিয়াস উদ্দিন আনসারির চাকুরীর মেয়াদ শেষ হলে তিনি বিদায় নেন। কিন্তু লোকমানের স্বপদে বহালে রিফাইনারির কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় লোকমানের পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলনে নামতে পারেন তারা।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।