চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, ছাঁটাই শ্রমিক-কর্মচারীরা

0

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার থেকে এসব কারখানার উৎপাদন ও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াজাতকারী এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ইস্পাতপণ্য উৎপাদনকারী এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল। এ ছাড়া এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কারখানার শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাঁটাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নোটিশ বোর্ডে বৃহস্পতিবার ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। সেখানে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। ১ আগস্ট থেকে ছাঁটাই কার্যকর হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। মজুদ থাকা কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন সীমিত আকারে উৎপাদন চালু রাখা হলেও ধীরে ধীরে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আসে। এর আগে বিভিন্ন কারখানায় দফায় দফায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছিল।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০০ জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রায় ২০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী ছিলেন। অন্য কারখানাগুলো মিলিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন।

তিনি জানান, গত কয়েক মাসে ব্যাংকিং সহযোগিতা ও কাঁচামালের সংকটের কারণে একের পর এক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে এতদিন কারখানাগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের পর সবগুলো প্রতিষ্ঠানই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ কর্মরতদের ফিরে যেতে বলছেন।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।