চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি এপ্রিল মাসের ২৬ দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের পাশাপাশি, তীব্র গরম শুরুর পর থেকে হঠাৎ নিউমোনিয়ার প্রকোপও আশংজনকহারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকরা জানান, হাম ও নিউমোনিয়া একসঙ্গে হওয়ায় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তন, তীব্র গরম, ধুলাবালি এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।
এদিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চরম ভিড় দেখা যায়। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকায় একজনের শয্যায় ৩ থেকে ৪ জন করে রোগী রাখা হচ্ছে। ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিশুকে বারান্দা, মেঝে কিংবা ওয়ার্ডের বাইরেও রাখা হয়েছে।
সরকারি এই হাসপাতালে শিশুদের জন্য নির্ধারিত দুটি ওয়ার্ডে প্রায় দেড়শো শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৪২০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু বাঁশখালী, চকরিয়া, কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকা থেকে এসেছে। এছাড়া ফেনী ও নোয়াখালী থেকেও অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানা যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, বছরের এই সময়ে নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ে। যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের হাম শনাক্ত হয়নি। তবে শরীরে র্যাশ (ফুসকুড়ি) ছিল। হামের রোগীদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মাটিতে রাখতে হচ্ছে।


