জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চরমভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ১০টি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরীসহ আশপাশের এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে, ফলে তীব্র গরমে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার ২১১ মেগাওয়াটের বেশি। সরবরাহ কিছুটা থাকলেও স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং করতে হয়েছে, কারণ উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন এনলিমা, জুডিয়াক, জুলধা-২ ও ৩, রাউজান-১ ও ২ এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্টসহ একাধিক কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এছাড়া বড় কেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকেও সন্ধ্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিকলবাহা কেন্দ্র এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সীমিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীতে দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং কিছু উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শুধু গরমে ভোগান্তিই নয়, পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দারা জানান, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ফটিকছড়ির ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনভিত্তিক কাজসহ ব্যবসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং বাড়ছে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


