আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক

0

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে তিন ফসলি কৃষিজমির মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। প্রশাসন বা জমির মালিকের অনুমতি না নিয়ে অসাধু চক্রটি দিনদুপুরে তিন ফসলি জমির মাটি ভেকু মেশিনে কাটা হচ্ছে। এসব মাটির বেশিরভাগই বিক্রি করছেন পুকুর ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং দুই উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।

এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এসব মাটি ট্রলি ও ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়িতে বহনের ফলে ধ্বংস হচ্ছে কাঁচা-পাকা সড়ক। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসিদের।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে কর্ণফুলী খানাধীন উত্তর বন্দর শ্মশানের পাশে মো. সাইফুল আলম নামে এক ব্যক্তির ৩৮ শতক তিন ফসলি জমি কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) জব্দ করে বলে নিশ্চিত করেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জমির মাটি লুটের জড়িত সৈয়দ ও জহির পালিয়ে যায়। জব্দ রয়েছে মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু)। পুলিশ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জমির মালিক মো. সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় সৈয়দ ও জহির নামে দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক গতকাল থেকে দুটি ডাম্পার গাড়ি এবং এক্সকাভেটর দিয়ে অন্যায় ভাবে আমার জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাটিকাটা বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশে বিষয়টি জানিয়েছি। মাটি লুটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত জহির বলেন, আমি গাড়ি ভাড়ায় দিয়েছি মাত্র। জমির মালিকদের জন্য এসব মাটি কাটা হচ্ছে। তবে জমির মালিকের নিদিষ্ট পরিচয় তিনি দিতে পারেননি।

কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার সাধারণ কৃষকদের জমি থেকে প্রভাব কাটিয়ে দিনদুপুর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এরমধ্যে সাধারণ মানুষের জমিসহ সরকারি খাস জমির মাটিও কেটে লুট করছে চক্রটি। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব কাটিয়ে জবরদখল ও জোরপূর্বক মাটি কাটছে। এ রকম চলতে থাকে একসময় কৃষিজমি আর থাকবে না বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।