জমিদার আন্নর আলী খাঁর ঐতিহ্যবাহী মেলাকে ঘিরে গ্রামে চলছে উৎসব

0

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর বড়উঠানের জমিদার আন্নর আলী খাঁর চালু করা ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিয়ার বৈশাখী মেলাকে ঘিরে গ্রামের বাড়ি-বাড়ি চলছে উৎসবের আমেজ। জমিদার আন্নর আলী খাঁ মেলাটি প্রায় ২০০ বছর আগে চালু করেন। জমিদার মারা গেলেও তার বংশধরেরা প্রতি বছর বৈশাখের ৭ ও ৮ তারিখে মেলাটি আয়োজন করে আসছেন। সে হিসেবে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

ইতিমধ্যে মেলার সবধরণের প্রস্তুতি শেষ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জমিদারের বংশধর ও মেলার আয়োজক শাহাদাত হোসেন খান। মেলার ঐতিহ্য অনুযায়ী এ এলাকার পরিবারগুলোর যার যেখানে আত্মীয়স্বজন রয়েছেন, সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়। বিবাহিত মেয়েরা স্বামী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে বেড়াতে আসেন বাবার বাড়ি। যারা ঢাকাসহ দূরদূরান্তে চাকরিবাকরি করেন, তাঁরাও ছুটি নিয়ে এ সময় চলে আসেন নিজ গ্রামে। ঘরে ঘরে ভাজা হয় মুড়ি, মুড়কি, বিন্নি ধানের খই। ফলে বড়উঠান, পাশ্ববর্তী এলাকা গুয়াপঞ্চকসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি বাড়ি এখন আত্মীয়স্বজনে ভরপুর। এরআগে গত বছর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি স্থগিত করেছিলেন আয়োজক কমিটি। তবে এবার পুনরায় মেলা শুরু হওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ্ আহমদ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ২০০ বছর ধরে এই বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে আমরা বাপ-দাদাদের মুখে শুনেছি। মেলার ঐতিহ্য অনুযায়ী আত্মীয় স্বজনসহ আমাদের বিবাহিত বোন ও মেয়েরা স্বামী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে বেড়াতে আসেন বাবার বাড়িতে। মেলাকে ঘিরে ঘরে-ঘরে উৎসব চলছে।’

জমিদারের বংশধর ও মেলার আয়োজক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি ২০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। সে থেকেই এ মেলার উৎপত্তি। এখন দিন দিন এ মেলার প্রসার ঘটছে। গত বছর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেলা স্থগিত করা হয়। এবার সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য সবধরণের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। মেলা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।