যখন টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদে নেমে আসে দুর্ভোগ, তখন অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি, অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু স্থানে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে। ঠিক এমন সংকটের মুহূর্তে মানবিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাঁশখালী স্টুডেন্টস ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সংগঠনটির উদ্যোগে টানা তিন দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচালিত হয়েছে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম। বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রবাসী শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সামগ্রী।
ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় বাহারছড়া, কাতারিয়া, খানখানাবাদ, চনুয়া ও চাম্বলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে যান স্বেচ্ছাসেবীরা। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত থাকায় বিকল্প পথ ব্যবহার করে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে সংগঠনটির সেচ্ছাসেবীরা।
শুধু খাদ্যসামগ্রী বিতরণ নয়, স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিটি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন, তাদের প্রয়োজন শুনেছেন এবং ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দুর্যোগের সময় পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতারও। বন্যার কারণে বহু পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এই উদ্যোগে বাঁশখালী স্টুডেন্টস ফোরামের বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রবাসী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত সহযোগিতাই এই কার্যক্রমকে সফল করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্যোগের সময়ে এই সহমর্মিতাই মানুষকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগায়। কোথাও কোমর সমান পানি আবার কোথাও গলাবধি পানি মাড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন উল্লেখ করে সংগঠনটি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পোদ্যোক্তা, প্রবাসী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্মিলিত উদ্যোগই পারে বিপর্যস্ত মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।


