কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন চলাচল বাড়াতে টোল হার সহনীয় পর্যায়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোরিয়ান ইপিজেড, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, বিশেষ করে ভারী ও বাণিজ্যিক যানবাহনকে টানেলমুখী করতে টোল পুনর্বিবেচনার চেষ্টা চলছে। সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন শেষ হলে টানেলে যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর উদ্বোধনের পর কর্ণফুলী টানেলে প্রত্যাশিত সংখ্যক যানবাহন চলাচল নিশ্চিত হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টানেল থেকে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় ১১ লাখ ২১ হাজার ৭৩০ টাকা। বিপরীতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দৈনিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৬ টাকা। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ।
উদ্বোধনের সময় প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি। তুলনামূলক বেশি টোলের কারণে ভারী ও বাণিজ্যিক যানবাহনের একটি বড় অংশ এখনো বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকারের অন্যতম ভরসা আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চলে বিপুল বিনিয়োগ আসছে। শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য পরিবহনে বিপুলসংখ্যক ট্রাক ও কনটেইনারবাহী যান কর্ণফুলী টানেল ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ার পাশাপাশি টানেল ব্যবহারের পরিমাণও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টোল কমালেই টানেলের যানবাহন বাড়বে না। লজিস্টিক ব্যয় কমানো, সংযোগ সড়ক ও বাইপাসের কার্যকর ব্যবহার এবং শিল্পাঞ্চলগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রয়োজন রয়েছে।


