পূজার ছুটিতে পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে খাগড়াছড়ির রিসাং ঝরনা

0

পাহাড়, ঝরনা, নীল আকাশ আর মেঘের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির রিসাং ঝরনা থেকে। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে উঁচু থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলরাশি আর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রিসাং ঝরনা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। মারমা ভাষায় ‘রিসাং’ শব্দের অর্থ উঁচু জায়গা থেকে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। ত্রিপুরা ভাষায় ঝরনাটি পরিচিত ‘তেরাং তৈকালাই’ নামে।

ঝরনায় যাওয়ার পাহাড়ি পথে চোখে পড়বে সবুজ পাহাড়, জুমের খেতে পাকা ধান, আঁকাবাঁকা সড়ক আর নীল আকাশে ভেসে থাকা সাদা মেঘ। প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের বারবার থেমে ছবি তুলতে উৎসাহিত করে। রিসাংয়ের কাছেই রয়েছে আরেকটি নামহীন ঝরনা। ছড়া ও ঘন জঙ্গল পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়, যা রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শহরের পানখাইয়া পাড়া ও মহাজনপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে।

যাতায়াত ও খরচ

খাগড়াছড়ি শহর থেকে রিসাং ঝরনায় যেতে পিকআপ, চাঁদের গাড়ি, সাফারি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মাহিন্দ্র ব্যবহার করা যায়। ঝরনার প্রবেশপথ পর্যন্ত পিকআপ বা জিপের যাওয়া-আসার ভাড়া প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ভেতরের পথে মোটরসাইকেলে যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা। ভ্রমণের আগে ভাড়া ঠিক করে নেওয়া ভালো।

খাগড়াছড়ি শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব জায়গায় কক্ষভেদে প্রতি রাতের ভাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

সতর্কতা

ঝরনার পাথরে শেওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই পানির স্রোত বেশি থাকলে পাথুরে ঢালে ওঠানামা কিংবা পানির ওপর দিয়ে চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ স্থান ছাড়া ঝরনার পানিতে নামা এবং পিচ্ছিল পাথরে ওঠার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা জরুরি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।