বন্যার ধাক্কা সামলে আমন আবাদে ফিরছেন চট্টগ্রামের কৃষক, সহায়তা পেলেন ৩৪ হাজার

0

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন আবাদে ফেরাতে সরকারি সহায়তায় ৩৪ হাজারের বেশি কৃষকের হাতে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বন্যায় বীজতলা ও আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকদের নতুন করে চাষ শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৩টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৩ হাজার ৬৯৬ জন কৃষককে পাঁচ কেজি করে আমন ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি জমিতে বীজতলা তৈরি করে উৎপাদিত চারা পেয়েছেন আরও ৩৯৯ জন কৃষক।

বন্যার আগেই হাটহাজারী ও পটিয়া উপজেলায় সরকারি জমিতে বিশেষভাবে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে এসব বীজতলার চারা বিতরণ শুরু হয়। গত ২৯ আগস্ট হাটহাজারীতে ‘কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি’র আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে চারা বিতরণ শুরু করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা জানান, বন্যার পর দ্রুত আমন আবাদে কৃষকদের ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিতে উৎপাদিত চারা নির্দিষ্ট কৃষকদের এক বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরবরাহ করা হয়েছে।

বাঁশখালীর কৃষক আবদুল বাতেন জানান, বন্যার পানিতে তার বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমন আবাদ নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সরকারি বীজ পাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করে সময়মতো চারা রোপণ করতে পেরেছেন।

সীতাকুণ্ডের কৃষক মুসলিম উদ্দিনও জানান, বন্যার পর হাতে অর্থের সংকট থাকায় নতুন করে বীজ কেনা ও বীজতলা তৈরি করা কঠিন ছিল। বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় দ্রুত আমন আবাদে ফিরতে পেরেছেন তিনি।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার কারণে এবার আমন আবাদের গতি শুরুতে কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকারি সহায়তা ও অতিরিক্ত বীজতলা তৈরির উদ্যোগে পরিস্থিতি দ্রুত সামলে উঠছে। নির্ধারিত সময় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আমনের চারা রোপণের সুযোগ থাকায় আগামী দিনগুলোতে আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এখন জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদই অনেক কৃষকের কাছে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।