বিদেশি অপারেটরের কাছে টার্মিনাল ইজারা নয়, বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান

0

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ স্থগিতের দাবিতে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

কর্মসূচিতে নেতারা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ থেকেও সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

এর আগে এনসিটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত খসড়া কনসেশন চুক্তি গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১৫ বছরের জন্য অনুমোদন দেয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, এনসিটি দেশের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় হস্তান্তরের আগে একটি সামগ্রিক ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য রাজস্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ, প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, কর্মদক্ষতা এবং ইজারা থেকে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধার বিষয়গুলো থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে কৌশলগত বন্দর অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় দেওয়ার জন্য কেন তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করা দরকার।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছর মেয়াদি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ প্রত্যাহার এবং বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক ও নেতাদের প্রশাসনিক হয়রানি না করারও আহ্বান জানান তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।