লোহাগাড়ায় আগাম শীতকালীন সবজিতে কৃষকের মুখে হাসি
সবুজ পত্র-পল্লবে চেয়ে আছে মাঠের পর মাঠ। ভোরের বাতাসে পাতা নড়তেই দু একফোঁটা শিশিরকণা ঝরে পড়ছে। মাঝে মাঝে পাতার ফাঁকে উকি দিচ্ছে বেগুন,শীম, টমাটো। কোথাও বা আবার বাহারি ধরনের শাকপাতার সমারোহ। মূলা-ধনিয়াপাতাও চাষ হয়েছে মাঠের পর মাঠ। আর এসবের যত্ন নিতে সকাল থেকে মাঠে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন কৃষকরা। কেউ পরিচর্যা করছেন, কেউবা আবার ফসল তুলছেন। শুক্রবার(২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ফসলের মাঠগুলোতে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। শীতের আগেই মাঠগুলো ভরে উঠেছে সবজিতে।
জানা যায়, এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয়ে থাকে পদুয়া এবং চুনতিতে। এ দুই ইউনিয়নে উৎপাদিত সবজিতেই পুরো উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তবে গেল বছরের বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হন এখানকার কৃষকেরা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যার কারণেও আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন অনেক কৃষক। এবার সেসব ক্ষতি পুষিয়ে আশার আলো দেখছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ উপজেলায় এবার আগাম শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় শুরুতেই ৯ হেক্টর জমিতে ফলন নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে উত্তর পদুয়া সওদাগর পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, হাঙরখালের পাশের জমিগুলো সবজি চাষের জন্য উর্বরভূমি হিসেবে বেশ পরিচিত। সেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে আবাদ হচ্ছে শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, করলা, কাকরোল, টমেটো, লাউ, লালশাক, মুলাশাক, ধনিয়াপাতা ইত্যাদি।
কৃষকরা জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সবজি গাছে ফলনও আসতে শুরু করেছে। কৃষকেরা এবার ভালো ফলনের আশা করছেন।

পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ বলেন, হাঙরখালের পাশের জমিগুলো সবজি চাষের জন্য উর্বরভূমি হিসেবে বেশ পরিচিত। এখানে শত শত কৃষক সবজি চাষ করে পরিবার চালান। কিন্তু গেল বন্যার কারণে কৃষকের সবজির ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কৃষক শাহ আলম বলেন, গতবছর বন্যার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার সবজির গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। সামনে যদি আর বন্যা না হয় তাহলে ভালো লাভবান হওয়ার আশা করছি। অপর কৃষক রিয়াদ বলেন, গতবছর বন্যার কারণে খুব বেশি ফলন হয়নি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এবছর ভালো ফলনের আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় সম্প্রতি বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর পরিমাণ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমরা কৃষকদের আগাম সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করছি। ইতোমধ্যে সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার কৃষককে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণোদনা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।