বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। ঢেউয়ের শব্দের সঙ্গে মিশে আছে স্লোগান আর অপেক্ষার উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে রোববার (৯ আগস্ট) এমনই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায়।
তবে এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু শুধু প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা নয়। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দিনটি হয়ে উঠেছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার দিন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল করিম বলেন, বন্যায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। নতুন ঘর পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তি। আমরা চাই, এই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দিকেও সরকার নজর দিক।
বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের উন্নয়ন নিয়েও স্থানীয়দের প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এই সৈকত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নতুন পরিচিতি পাবে। এতে উপকূলের মানুষের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসতে পারে।
এদিকে বাঁশখালীতে চাবি হস্তান্তর, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদান ও ত্রাণ বিতরণের পর্ব শেষে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
এরপর সড়কপথে হাটহাজারী গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত এবং হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩০টি পরিবারের হাতে সহায়তা তুলে দেবেন তিনি।
দিনব্যাপী জেলা ও উপজেলার নানা কর্মসূচির ইতি টেনে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনভর ব্যস্ত সফর শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।


