দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছ নমুনা আকারে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এতে আসন্ন জোয়ারে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানিয়েছেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং উজান থেকে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে নমুনা ডিম পাওয়া গেছে এবং দুপুরের জোয়ার বা রাতের দিকে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হালদা নদীর তীরবর্তী এলাকায় শত শত ডিম সংগ্রহকারী জাল, বালতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নদীর পাড়ে আবার কেউ নৌকায় অবস্থান করে ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় আছেন। নমুনা ডিম পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দ্রুত নদীতে নেমে পড়েন।
মদুনাঘাট, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিসহ বিভিন্ন স্থানে ডিম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে সব ডিম রাখা সম্ভব হয়নি। এ বছর বেশি পরিমাণ ডিম সংরক্ষণের লক্ষ্যে নতুন কুয়া নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।


