অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে তুলছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অপ্রয়োজনীয় ও নিয়ন্ত্রণহীন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে জীবাণু প্রতিরোধক্ষম হয়ে উঠছে, ফলে সাধারণ সংক্রমণও এখন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করছে।

সম্প্রতি অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি এক গর্ভবতী রোগীর সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক দেন, কিন্তু ওষুধ কাজ করেনি। পরীক্ষায় দেখা যায়, জীবাণুটি সেই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্ট। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যবহারে জীবাণু ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে—এতে সাধারণ ইনফেকশনও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

আইসিডিডিআরবি ও এফএফসিজিবির যৌথ জরিপে দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩,৩০০ রোগীর ওপর গবেষণায় উঠে আসে অ্যান্টিবায়োটিকের ভয়াবহ অপব্যবহারের চিত্র। দেখা যায়, বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, এবং অনেকেই পূর্ণমাত্রা শেষ না করে মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দিচ্ছেন। শিশু ও গাইনি বিভাগে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি—৮৯% ও ৮৬%।

রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয় ছাড়াই অনুমানভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। খুলনা, বরিশাল ও সিলেটেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্ট্যুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন না মানার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন উপেক্ষিত হচ্ছে। রাজশাহীতে তৃতীয় প্রজন্মের চ্যাপালোস্পোরিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার চিকিৎসকদের উদ্বিগ্ন করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হলেও রেজিস্ট্যান্স হলে তা ব্যর্থ হয়ে পড়ে। আইসিডিডিআরবির ডা. ফাহমিদা চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইনের প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কামরুল আলম বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ না করলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে। অ্যানেশথিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক মনে করেন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্টিবায়োটিকই আইসিইউতে মৃত্যুহার বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।