ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, পানিতে ডুবছে আমনের চারা

0

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি সড়কের কালভার্ট নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা এবং ধানী জমির পানি প্রবাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে একরের পর একর আমনের চারা পানির নিচে ডুবে আছে প্রায় ১০দিন ধরে। কৃষকরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের দরজায় ঘুরেও পাচ্ছেন না সমাধান। ফলে ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন সড়ক এলাকায় গেলে বেশ ক’জন কৃষক তাদের দূর্ভোগের কথা জানান।

তারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট তৈরিতে ঠিকাদার পুরো বছরজুড়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ধলা ও কৃষ্ণা বিলের পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এন এন্টারপ্রাইজ একটি অস্থায়ী বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে। এতে এক সপ্তাহ ধরে পাশের দু’টি বিলের প্রায় ৩০ একর জমির আমন চারা পানিতে ডুবে আছে।

জানা গেছে, তালবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন সড়কে ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের কালভার্টটির কাজ পায় সরোয়ারর্দী নিজামী নওফেলের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এন এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের মে মাসে এটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

স্থানীয় কৃষক হাজী বশর উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ২৫ দিন আগে আমি ধলা বিলে এক একর জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করেছি। গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে পুরো জমির আমনের চারা পানিতে ডুবে আছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সরোয়ারর্দী নিজামী নওফেল বলেন, আমরা বাইপাস সড়কে পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। তবে ওই বিলগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি থাকায় কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমারও এই ব্রিজের কাজ করে লোকসানে পড়তে হবে। কালভার্টের কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় চতুর্মুখী সঙ্কটে পড়েছি। কালভার্ট নির্মাণ করা সড়কটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কের পূর্ব দিকে সরকারি খাদ্য গুদাম। বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সরবরাহের জন্য টিসিবি, ওএমএসসহ বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চলছে। কৃষকদের বাঁচাতে পানি প্রবাহ বাড়াতে বাইপাস সড়কের একটি অংশ কেটে দিতে পারতাম। কিন্তু তা কাটা হলে উপজেলায় সরকারি খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm