রেকর্ড রানের জুটিতে জিতলো টাইগাররা

0

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দেশীয় সপ্তম উইকেটের সর্বোচ্চ ১৭৪ রানের রেকর্ড গড়ে আফগানদের ৪ ইউকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। আফিফ ও মিরাজ সপ্তম উইকেটে এ জুটি গড়েন। এ ম্যাচে ব্যাটে-বলে নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচ সেরা হন মিরাজ।
আজ বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। এ ম্যাচে আফগানিস্তান ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ও ৭ বল বাকি থাকতে ২১৯ করে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

আফিফ ও মিরাজ ১৭৪ রানের জুটি গড়তে খেলেন ২২৫ বল। আফিফ ১১৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯৩ রানের অপরাজিত থাকেন। অপর প্রান্তে মিরাজ ১২০ বলে ৯টি চারে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
এর আগে দলীয় ৪৫ রানে টাইগাররা টপ অর্ডারের ৬ উইকেট খুঁইয়ে বসে বাংলাদেশ। সেই মুহূর্তে বাংলাদেশী সমর্থকদের মনে হার উঁকি দিলেও আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। তারা দুজন গড়ে অপরাজিত ১৭৪ রানের ইনিংস। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের। তারা দুজন গড়েছিলো ১২৭ রানের ইনিংস। সেবার বাংলাদেশ আগে ব্যাট করেছিল। আর মাত্র ৩ রান করতে পারলেই সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ বিশ্ব রেকর্ড গড়তো। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও আদিল রশিদ ১৭৭ রানের জুটি গড়ে এই রেকর্ডের নিজেদের করে রেখেছেন।

মিডল অর্ডার ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বির এ ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে ওয়ানডে অভিষেক হয়।
আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১২ রান আসে। কিন্তু তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। প্রথমে ফজল হক ফারুকির তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন দাশ (১)। এক বল পরেই ফারুকি এলবির ফাঁদে ফেলেন তামিম ইকবালকে (৮)।
ফারুকি নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে এলবির ফাঁদে ফেলে ফেরান ৩ রান করা মুশফিকুর রহিমকে। তিনি একই ওভারের শেষ বলে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী রাব্বিকে শূন্য রানে সরাসরি বোল্ড করেন।
সাকিব আল হাসানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৫ বলে ১০ রান করে তিনি মুজিব উর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজ ঘরে। ১২তম ওভারে বোলিংয়ে আসা রশিদ খান নিজের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদউল্লাকে গুলবাদিন নাইবের ক্যাচ বানান। ১৭ বলে ৮ রান করেন তিনি।

এরপর শুরু হয় আফিফ-মিরাজের খেল। ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডেতে এসে অভিষেক হাফসেঞ্চুরির দেখা পান আফিফ হোসেন। আর মিরাজ তুলে নেন ওয়ানডের দ্বিতীয় ফিফটি। এই দুই তরুণের ব্যাটেই ভর করে জয় পায় টাইগাররা।
এর আগে প্রায় ৭ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। বল হাতে দারুণ বোলিং করলেন মোস্তাফিজ-তাসকিন-শরিফুল-সাকিবরা। স্বাগতিকদের বোলিং তোপের মুখে ২১৫ রান তুলতেই সব উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আফগান ওপেনার রহমতুল্লাহ গুরবাজকে বিদায় করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এই বাঁহাতি পেসারের দ্বিতীয় ওভারে মিড উইকেটে তুলে মারতে গিয়ে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন গুরবাজ(৭)।

ষষ্ঠ ওভারে ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছে ক্যাচ তুলে দেন আফগানিস্তানের ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। সেই ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে গুরবাজ ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ রান করে এই ব্যাটসম্যান শরিফুলের বলে ইয়াসির আলী রাব্বির দারুণ এক ক্যাচে ফেরেন।
দলীয় ৫৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা আফগানিস্তানের রানের চাকা সচল রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন রহমত শাহ। কিন্তু তিনে নামা এই ব্যাটসম্যানকে ইনিংস দীর্ঘ করতে দিলেন না তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই টাইগার পেসারের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন রহমত শাহ। ফেরার আগে রহমত ৬৯ বলে ৩৪ রান করেন।
আফগান শিবিরে চতুর্থ ধাক্কা দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই স্পিনার ম্যাচে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে তুলে নেন হাশমতুল্লাহ শহীদির উইকেট। রিয়াদের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন সফরকারী দলের অধিনায়ক। তিনি ৪৩ বলে করেছেন ২৮ রান করেন। এরপর নবি ও নজিবুল্লাহ মিলে গড়েন ৬৩ বলে ৬৩ রানের জুটি। ৩৯তম ওভারে নবিকে ২০ রানে বিদায় করে জুটি ভাঙেন তাসকিন।

নবি গেলেও আফগানদের ভরসা হয়ে দাঁড়ান নজিবুল্লাহ। ফিফটি তুলে নেন এই আফগান ক্রিকেটার। তবে অপর প্রান্তে ছিল আসা-যাওয়ার মিছিল। এর মধ্যে সাকিবের এক ওভারে পড়ে ২ উইকেট। ইনিংসের ৪৫তম ও সাকিবের নবম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন গুলবাদিন নাইব (১৭)। ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রশিদ খান (০)।
৪৬তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন মুজিব উর রহমান (০)। ৪৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে চতুর্থ বলে জাদরানকে বিদায় করেন শরিফুল। বাঁহাতি পেসারের বলে তুলে মারতে গিয়ে লং-অনে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ তুলে দেন জাদরান। তিনি ৮৪ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৬৭ রান করেন। শেষ ওভারে ফের মোস্তাফিজের আঘাত। এবার ইয়ামিন আহমাদজাইকে (৫) লং অনে রিয়াদের ক্যাচে পরিণত করেন ফিজ।

বল হাতে ৩টি উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল, তাসকিন ও সাকিব। বাকি উইকেট মাহমুদউল্লাহর। মিরাজ উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে ৩ মেডেন দিয়ে মাত্র ২৮ রান দেন তিনি।
একই ভেন্যুতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm