আইনজীবী নেতাদের কথিত অবৈধ আবদার না মানায় আদালত বর্জন

0

চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির নেতাদের কথিত কিছু নির্দেশনা ও আবদার না মানাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর আদালত বর্জন করছেন আইনজীবীরা। এতে আদালতপাড়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হলেও আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বিচারকরা।

জানা গেছে, জামিনের দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কিছু শর্ত বা নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে গত রবি ও সোমবার চাঁদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমানের আদালতে বহিরাগতদের দিয়ে হট্টগোলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের উপস্থিতি কমে গেলেও বিচারিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিনের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনা পালন না করাকে কেন্দ্র করে বিচারক মুজাহিদুর রহমানের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবী নেতারা। তবে আদালত বর্জনের কারণে বিচারিক কার্যক্রম আইনগতভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি। বিচারক তাঁর এখতিয়ার অনুযায়ী নির্ধারিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে বিচারপ্রার্থী, আসামি ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে ভোগান্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জামিনসহ জরুরি আইনি কার্যক্রম নিয়ে অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। তবে আদালতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত না থাকলেও বিচারকের আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই।

এদিকে আদালত বর্জনের ঘটনায় আইনজীবী ও বিচার বিভাগের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও চাঁদপুরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিচারপ্রার্থী ও সচেতন মহল।

তবে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আদালত বর্জনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আদালত বর্জনের ফলে একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুর আদালতের পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্যোগে দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে এর প্রভাব বিচারপ্রার্থীদের ওপর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।