বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলেও ভয় দেখানো হতো।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, কামরুল হাসান প্রকাশ সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ প্রকাশ মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোনকল ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তাররা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করতেন। তারা প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের মতো পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতেন।
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এসব ব্যক্তির নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তাররা নিজেদের পৃথক একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন।
অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


