‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ। বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উমা খান কাফি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভলান্টিয়ার সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্বোধনের পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
র্যালি শেষে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন সংযোজিত বিভিন্ন উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কর্মকর্তারা উপস্থিত অতিথি ও সাধারণ মানুষকে এসব যন্ত্রপাতির ব্যবহার, অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কৌশল এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা দেন।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আনোয়ারা স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ। সভায় বক্তারা বলেন, যেকোনো অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মহিন উদ্দীন বলেন, ‘দেশে ফায়ার সার্ভিসই একমাত্র বাহিনী, যারা যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় সর্বপ্রথম ছুটে যায়। সংবাদ পাওয়ার পর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তারা স্টেশন থেকে রওনা হয়। মানুষের জানমাল রক্ষায় এই বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও মহড়া দেখবেন, তারা অন্যদের মাঝেও সচেতনতা ছড়িয়ে দেবেন। এতে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সচেতনতামূলক মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনী, অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


