ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার চার ভাইকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বুধবার ভোরে নিজ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিনের দৃশ্য অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে। পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।


