পর্যটন শহর কক্সবাজারে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি অটোগ্যাস সংকট। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শহরের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশনে ‘গ্যাস শেষ’ নোটিশ ঝুলতে দেখা যায়। এতে জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
অটোগ্যাসের পাশাপাশি রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারেও ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও গ্রাহকরা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কোথাও দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত মজুত নির্দিষ্ট ক্রেতাদের জন্য গোপনে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।
এই সংকট শুধু শহরে নয়, চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ প্রায় সব উপজেলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এতে অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহনচালকরা আয় হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুরাদ জানান, হঠাৎ গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, শুনেছি আশপাশের কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কাল গাড়ি নিয়ে বের হতে পারব কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান উখিয়াগামী নোহা মাইক্রোবাস চালক মহিউদ্দিন। পথিমধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, পাম্পে এসে জানতে পারি গ্যাস নেই। মনে হয় আজ রাতে আর গন্তব্যে ফেরা হবে না। কাল সকালের ভাড়ার ট্রিপটাও মিস হয়ে যাবে।
চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ দুই মাসের পরিসংখ্যানে এলপিজি আমদানি বেড়েছে। সে তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।