চট্টগ্রামে বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্টের জমজমাট বাজার

0

শহুরে জীবনে সবুজের পরশ পেতে চট্টগ্রামে বাড়ছে বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা। জায়গার সংকটের কারণে বড় গাছ লাগানোর সুযোগ কমলেও টবে ছোট আকারের গাছ, বনসাই ও পাতাবাহার দিয়ে ঘর সাজানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্টের বড় বাজার।

চট্টগ্রামের লালদীঘি বৃক্ষমেলায় গিয়ে দেখা গেছে, বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্টের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড়। কেউ গাছ দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ঘর, বারান্দা কিংবা অফিস সাজানোর জন্য পছন্দের গাছ কিনছেন।

মেলায় ‘জান্নাতশপ ডট সিটিজি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪৭ বছর বয়সী একটি চায়নিজ বনসাই প্রদর্শন করছে। ছোট একটি টবে থাকা বটগাছটির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আত-তাওয়াবুল ইসলাম জানান, তাদের কাছে আরও কয়েক ধরনের বনসাই রয়েছে, যেগুলোর দাম ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, বনসাই কোনো জিনগতভাবে ছোট গাছ নয়। বড় হতে সক্ষম সাধারণ গাছকে বিশেষ কৌশলে ছাঁটাই, পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন টবে ছোট আকারে রাখা হয়। এটি মূলত একটি জীবন্ত শিল্প।

তাওয়াবুল জানান, বনসাই তৈরি তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তার দাদা এ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি পারিবারিক এই পেশা ধরে রেখেছেন।

বনসাইয়ের ক্রেতাদের মধ্যে শহরের অভিজাত ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও বৃক্ষপ্রেমীদের সংখ্যাই বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সবুজ পরিবেশ তৈরির আকাঙ্ক্ষা থেকেই অনেকে এসব গাছ কিনছেন।

চট্টগ্রাম শহরে বাড়ির আঙিনা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ছাদবাগান ও টবে গাছ লাগানোর প্রবণতাও বেড়েছে। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার, ফুলের গাছ, শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ ও ক্যাকটাসের চাহিদা তৈরি হয়েছে।

‘তরুবন’ নার্সারির স্বত্বাধিকারী এস এম ইমাম হোসাইন বলেন, মানুষের গাছ কেনার ধরন বদলে গেছে। এখন ঘরের সৌন্দর্য ও মানসিক প্রশান্তির জন্যও অনেকে ইনডোর প্ল্যান্ট কিনছেন। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের মধ্যে এসব গাছের চাহিদা বেশি।

জাত ও আকার অনুযায়ী ইনডোর প্ল্যান্ট ও ক্যাকটাস ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তরুণদের মধ্যেও নতুন ও ব্যতিক্রমী গাছ সংগ্রহের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান নার্সারি ব্যবসায়ীরা।

বনসাইকে অনেক সময় ‘জীবন্ত ভাস্কর্য’ বলা হয়। শব্দটি জাপানি হলেও এই শিল্পের শিকড় চীনে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীনে ছোট পাত্রে খর্বাকৃতির গাছ পরিচর্যার প্রচলন শুরু হয়। পরে জাপানে এ শিল্প আরও বিকশিত হয়।

চট্টগ্রামের বৃক্ষমেলায় বনসাই ও ইনডোর প্ল্যান্ট ঘিরে মানুষের আগ্রহই বলে দিচ্ছে—শহরে জায়গা কমলেও সবুজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি; বরং তা এখন ঘরের ভেতরেই নতুন রূপে জায়গা করে নিচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।