পাহাড়ে শুরু হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়েছে।
চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া-খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু। খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট দিয়ে ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন।
রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই এই আয়োজন ছিল।
ফুল পুজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এসময় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিনী জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফুল ভাসানো পরিদর্শন করেন।
আগামীকাল চাকমাদের মূল বিজু আর নববর্ষের দিন পালিত হবে গজ্জাপজ্জা।
এদিকে চৈত্র সংক্রান্তি থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় শুরু করবে তিনদিনের বৈসু উৎসব। হারিবৈসুর দিনে নদীতে ফুল পুজার পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে নতুন বুননের রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। ‘গরয়া নৃত্য’ তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।
অন্যদিকে মারমা সম্প্রদায় নববর্ষকে ঘিরে পালন করবে সাংগ্রাইং উৎসব। তিনদিনব্যাপী এই উৎসবে থাকবে বুদ্ধ পূজা, পবিত্র জল দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় রি-আকাজা বা পানি উৎসব। যেখানে সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


