বান্দরবানে সেনা অভিযানে অপহৃত ৬ রাবার শ্রমিক উদ্ধার

0

শ্বাসরুদ্ধকর এক সেনা অভিযানে অপহৃত ছয় রাবার শ্রমিককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। ২২ ঘণ্টার অভিযান শেষে শুক্রবার ভোরে তাদের উদ্ধার করা হয়। অপহৃত সবাইকে গত বুধবার গভীর রাতে বান্দরবানের টংকাবতী হাতির ডেড়া এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, অপহরণে জড়িত সন্দেহে ওই এলাকা থেকে ম্যাংতাং ম্রো নামে এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাং ইয়াং ম্রো জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে ইসমাইলের রাবার বাগানে ঢুকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লাহ এবং মো. রমিত নামে ছয় রাবার শ্রমিককে অপহরণ করে।

খবর পাওয়ার পর পরই টংকাবতী পুলিশ ফাঁড়ি ও বান্দরবান সদর থানার সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। পরে সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের সদস্যরা বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বান্দরবান সদর জোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহষ্পতিবার ভোর থেকেই সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম সম্ভাব্য এলাকা সমুহ ঘিরে তল্লাশী অভিযান শুরু করে। এ সময় তারা একটি পাহারে সন্দেহভাজনদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে ঘিরে ফেললে অপহরণকারীরা জিম্মিদের ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভোর ৬টার দিকে জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন অপহৃত রাবার শ্রমিকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই ছয়জনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ম্যাংতাং ম্রোকে বান্দরবান সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বান্দরবান সদর থানার ওসি শাহেদ পারভেজ জানান, ম্যাংতাং ম্রোকে ছয় রাবার শ্রমিক অপহরণ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবার বাগানের মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘একটি আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাবার বাগান মালিকদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হয়। আমি তা দিতে রাজি না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।’

তিনি জানান, অপহরণের পর থেকে পরিচয় গোপণ রেখে সন্ত্রাসীরা ২০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তবে শ্রমিকদের এই মুক্তির বিনিময়ে কোন মুক্তিপণ দিতে হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।