চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর মো. ফারুক (২৫) নামের এক প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাঙ্গুনিয়ার পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ফারুক জঙ্গল সরফভাটা ১নং ওয়ার্ডের মীরের খীল এলাকার মাতব্বর বাড়ির ওসমান ও গুলতাজ দম্পতির সন্তান। তিনি একজন ওমান প্রবাসী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সরফভাটার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফারুক। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার পাহাড়ে একটি লিচু বাগানে লুঙ্গি ও টিশার্ট পরিহিত হাত-পা বাঁধা এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দুপুরে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, লাশটি নিখোঁজ প্রবাসী ফারুকের।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফারুক গত ২ জুন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। বোয়ালখালীর গুচ্ছগ্রামে তার এক ভগ্নিপতির বাড়ি রয়েছে। তবে যে পাহাড় থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেটি গুচ্ছগ্রাম থেকে বেশ দূরে। আমরা ঘটনাস্থলে থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।
এদিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় হলেও মরদেহটি উদ্ধার হয়েছে বোয়ালখালী সীমান্ত থেকে। তাই রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনার ছায়াতদন্ত ও বোয়ালখালী পুলিশকে সহযোগিতা করলেও, আইনগত মূল ব্যবস্থা ও মামলা বোয়ালখালী থানাতেই দায়ের হবে।
অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


